অবশেষে শিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণ করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় - protidinislam.com | protidinislam.com |  
জাতীয়

অবশেষে শিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণ করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  প্রতিনিধি ১৩ মার্চ ২০২৩ , ১:০৩:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

Spread the love

ইসলাম ডেস্ক: দেশে শিক্ষার গুণগত মান-ব্যবস্থা নির্ধারণ, শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও আইনগত স্বীকৃতির জন্য ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। একে জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো বা সংক্ষেপে বিএনকিউএফ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এটি অনুসরণ করে দেশের শিক্ষার মান ও ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনা হবে।

রবিবার (১২ মার্চ) ফ্রেমওয়ার্কটি চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তা প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের শিক্ষা, দক্ষতা, যোগ্যতা বা সক্ষমতার স্বীকৃত কোনো কাঠামো না থাকায় অনেক সময় আমাদের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে হয় না। বৈশ্বিক মানের সঙ্গে ভারসাম্যের সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। ২০২১ সালের ৩ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক হয়। এরপর এর রূপরেখা তৈরিতে কাজ শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কর্তৃক আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক দক্ষতা সম্মেলনে’ বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (বিএনকিউএফ) থাকা অত্যাবশ্যক বলে প্রথম উল্লেখ করেন।

ফ্রেমওয়ার্কের প্রক্রিয়া:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আইএলও পরিচালিত ‘স্কিলস-২১’ প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর ধরে বিএনকিউএফ প্রস্তুত করা হয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএনকিউএফের কাঠামো চূড়ান্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়।

২০১১ সালে আইএলও ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার কারিগরি শিক্ষার জন্য যে কাঠামো তৈরি করেছিল তার ভিত্তিতেই বিএনকিউএফের কাঠামো প্রস্তুত করা হয়। কারিগরি শিক্ষার সেই কাঠামোটি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১-তে উল্লেখ আছে।

২০২১ সালের ৩ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠকে ‘ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন্স ফ্রেমওয়ার্কটি’ চূড়ান্ত করা হয়। গুণগত মান-ব্যবস্থা নির্ধারণ, শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও আইনগত স্বীকৃতির মাধ্যমে এটি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলমান।

বিএনকিউএফ কী?
বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক বা সংক্ষেপে বিএনকিউএফ মূলত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সমন্বিত দক্ষতার মানদণ্ড/রূপরেখা। যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার উন্নয়ন, শ্রেণিবিন্যাস ও স্বীকৃতিকে সর্বসম্মতভাবে কয়েকটি আপেক্ষিক স্তরে সমন্বয় করা হয়েছে। এ কাঠামোর ১০টি স্তরে উচ্চশিক্ষা, সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার কার্যকর সমন্বয় ও আন্তঃসংযোগের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফলে কেউ চাইলে একটি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অন্যটিতে তার অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে অক্ষুণ্ন রেখেই স্থানান্তরিত হতে পারবেন। এ কাঠামোটি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে যেসব শিক্ষা- তার স্বীকৃতি ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগও নিশ্চিত করবে। যোগ্যতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ণ ও সনদায়নের পাশাপাশি পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি এবং যোগ্যতা কাঠামো অনুযায়ী স্থানান্তরের ব্যবস্থাও এতে বিদ্যমান।

বিএনকিউএফের উদ্দেশ্য:
১. শিক্ষার সব স্তরের সাধারণ, কারিগরি, মাদরাসা শিক্ষার মধ্যে যোগ্যতার সঙ্গতিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞায়ন;
২. উন্মুক্ত এবং পরিবর্তনশীল যোগ্যতা পথরেখা, পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি ও শিখন স্থানান্তর, শিক্ষার্থীদের জীবনব্যাপী শিক্ষা এবং নিয়োগ যোগ্যতার সুযোগ সৃষ্টি;
৩. নিজ প্রতিষ্ঠান, সেক্টর এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে কর্মীদের সব ধরনের সমান্তরাল বা উর্ধ্বমুখী পরিক্রমা নিশ্চিতকরণ;
৪. জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কর্মীদের যোগ্যতার স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ;
৫. জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং গতিশীলতার স্থানান্তরের সমতা ও তুলনা পরিমাপ;
৬. বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার শুরু ও শেষ এবং এক ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের একটি সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট পথরেখা তৈরি;
৭. মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের গতিধারা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা।

বিএনকিউএফে যা যা আছে:

(ক) কাঠামো: সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় স্তরভেদে যোগ্যতার পরিমাপক এবং এক শিক্ষা ধারা থেকে অন্য শিক্ষা ধারায় কোন স্তর থেকে কোন স্তরে যাওয়া যাবে তার রূপরেখা।
(খ) জীবনব্যাপী শিক্ষা: আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে সারা জীবনব্যাপী অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতার স্বীকৃতি;
(গ) মড্যুলার বা ইউনিটাইজড সিস্টেম: যোগ্যতাভিত্তিক উপকরণ তৈরি, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, সনদায়ন এবং একই সঙ্গে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি এবং যোগ্যতা কাঠামো অনুযায়ী একটি ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় গমনাগমন;
(ঘ) গুণগত মান ব্যবস্থা: জাতীয় নিবন্ধীকরণ পদ্ধতি, ইনিস্টিটিউট ও কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের স্বীকৃতি।

২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক বা বিএনকিউএফের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের পর নানাবিধ পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ENGLISH