পদোন্নতির নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় বঞ্চিত শিক্ষক কর্মচারীরা - protidinislam.com | protidinislam.com |  
জাতীয়

পদোন্নতির নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় বঞ্চিত শিক্ষক কর্মচারীরা

  প্রতিনিধি ২০ মে ২০২৩ , ১২:৫২:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

Spread the love

ইসলাম ডেস্ক: সরকারি করা কলেজে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসরকারি আমলে প্রাপ্ত স্ব স্ব গ্রেড ও স্কেল বহাল রেখে বেতন-ভাতা নির্ধারণ, সহকারী অধ্যাপক (নন ক্যাডার), সহযোগী অধ্যাপক (নন ক্যাডার), অধ্যাপক (নন ক্যাডার) পদে পদোন্নতির উপবিধি প্রণয়ন করে দ্রুত পদোন্নতিসহ পাঁচ দফা দাবি করেছে সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস)।

শুক্রবার (১৯ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভায় এ দাবি বাস্তবায়ন সহকারের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাছান পাঠান জানান, সভায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসরকারি আমলের চাকরিকালের শতভাগ সময় সরকারি চাকরিকাল হিসাবে গণনা করে বেতন-ভাতা ও জেষ্ঠ্যতা নির্ধারণ, পদোন্নতি, পেনশন ও ছুটি কার্যকর করা, আত্তীকৃত কলেজগুলো বদলির সুযোগ রাখা ও অতিদ্রুত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. ইসহাকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাছান পাঠান ও নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক (সার্বিক) মো. মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এডুলাইট পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মিলটন চৌধুরী, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক শামীম আরা।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকারিয়া মাহমুদ, সহ-সভাপতি দিপু কুমার ঘোপ, আ ন ম রিয়াজ উদ্দিন, মো. রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হক, মহিউদ্দিন বাবুল, ইফতেখার আলম, ভূইয়া মহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, মো. ইলিয়াস মাহবুবুল মাওলা, মো. শাহ আলম, মো. রফিকুল ইসলামসহ কেন্ত্রীয় কমিটির নেতারা।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, বিভাগীয় কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকরা।

সভায় মূল বক্তব্যে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি স্কুল কলেজবিহীন প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও একটি করে কলেজ সরকারি করার ঘোষণা দেওয়ার পর ২০১৬ সালের ৩০ জুন ৩০২টি কলেজ সরকারিকরণের জন্য বাছাই করা হয়। এরপর আরও ২৭টি কলেজ বাছাই করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

২০১৮ সালে তৈরি করা আত্তীকরণ বিধিমালায় আত্তীকৃতদের মর্যাদা, পদোন্নতি, বেতন ভাতাদি নির্ধারণ ও কার্যকর চাকরিকাল গণনাসহ নানা বিষয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়। একাধিকবার যাচাই-বাছাইয়ের পর নানা ধাপ পেরিয়ে এখন পর্যন্ত ১৬১টি কলেজ সচিব কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে ১৩৪টি কলেজ। নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে ৯৫টি কলেজের। মাত্র ২৭টি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী পুরোপুরি সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

এ দীর্ঘসূত্রতার জন্য ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়করণের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জিও জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গেছেন।

চরম আর্থিক সংকটে অস্থায়ী ভিত্তিতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বেতন-ভাতা নির্ধারণে শিক্ষক কর্মচারীদের বেসরকারি আমলে প্রাপ্ত স্ব স্ব গ্রেড ও প্রাপ্ত বেতন ধাপ অবনমন করায় হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিমাসের বেতন-ভাতা বাবদ গৃহীত টাকা থেকে ৭-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পদোন্নতির নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমারা অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আরও খবর

Sponsered content

ENGLISH