বিদ্যুৎ মিলবে ৪১৯ মেগাওয়াট, ব্যয় বেড়ে ২১৭১ কোটি - protidinislam.com | protidinislam.com |  
জাতীয়

বিদ্যুৎ মিলবে ৪১৯ মেগাওয়াট, ব্যয় বেড়ে ২১৭১ কোটি

  প্রতিনিধি ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ , ৯:৫৩:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ

Spread the love

ইসলাম ডেস্কঃ ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিটের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টটির উৎপাদন ক্ষমতা বিদ্যমান ১৯০ মেগাওয়াট থেকে ২১৯ মেগাওয়াট বৃদ্ধি করে ৪০৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।

প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৭১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ এক হাজার ৭৭২ কোটি, বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।

এটিসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১০ হাজার ৬৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১১টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন সাত হাজার ৮২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন দুই হাজার ৮৮০ কোটি ১৮ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: রি-পাওয়ারিংয়ের মাধ্যমে সমপরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করে ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিটের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টটির উৎপাদন ক্ষমতা বিদ্যমান ১৯০ মেগাওয়াট থেকে ২১৯ মেগাওয়াট বৃদ্ধি করে ৪০৯ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানো ও গ্যাস টারবাইনের (জিটি) এক্সস্ট ফ্লু গ্যাস পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ কমানো।

মূল অনুমোদিত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত। নতুন করে জুন ২০২১ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত। দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব মোতাবেক জুলাই ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ নাগাদ মেয়াদ বাড়ানো হয়।

মূল অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ছিল দুই হাজার ২৯ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব মোতাবেক একনেক সভায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ১৭১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রধান কার্যক্রমসমূহ: গ্যাস টারবাইন জেনারেটিং ইউনিট, গ্যাস বুস্টার কম্প্রেসার ও অক্সিলারিজসহ ডিজেল জেনারেটর সেট স্থাপন, বিদ্যমান স্টিম টারবাইন জেনারেটিং ইউনিটের রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড মডিফিকেশন, হিট রিকভারি স্টিম জেনারেটর সেট, ডাক্ট বার্নার, স্টিম পাইপিং ও কন্ট্রোল ভাল্ব স্থাপন করা হবে। জিটি স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার, অক্সিলিয়ারি ট্রান্সফরমার, সুইচ গিয়ার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপন, বিদ্যমান পাওয়ার ইভাকুয়েশন সিস্টেমের (চতুর্থ ইউনিটের) সংস্কার ও জিটির জন্য পাওয়ার ইভাকুয়েশন সিস্টেম স্থাপন করা হবে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিমাপক ও নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং পূর্তকাজ করা হবে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ: প্রকল্পের কতিপয় খাতের ব্যয় বৃদ্ধি বা হ্রাস, নতুন খাত অন্তর্ভুক্তি ও প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর ৬ মাস বৃদ্ধি করা হয়।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় একটি রাজস্ব সাশ্রয়ী, দক্ষ, সর্বনিম্ন ব্যয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাসহ গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রকল্পটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত: প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হবে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে মানসম্মত, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও সেবার গুণগতমান বাড়ানো সম্ভব হবে।

আরও খবর

Sponsered content

ENGLISH