• অপরাধ

    রাষ্ট্র ব্যর্থ, গুলিই এখন রাজনৈতিক ভাষা

      প্রতিনিধি ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৫০:৩৭                        

    এম এ সাইদ (তন্ময়): ওসমান হাদির শরীরে গুলি ঢোকা কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটি রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার লিখিত স্বীকারোক্তি। প্রকাশ্য রাজপথে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গুলি করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়া মানে একটাই কথা: বাংলাদেশে আইন এখনো অপরাধীর পেছনে হাঁটে, সামনে নয়।

    আরো পড়ুন:

    জুলাই অভ্যুত্থান বানচালের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ: সরকার

    প্রশ্ন সোজা—যদি দিনের আলোতে এভাবে গুলি চালানো যায়, তবে রাতের অন্ধকারে কী হচ্ছে? যদি একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ নিরাপদ না হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

    প্রতিবারই একই নাটক মঞ্চস্থ হয়। গুলি চলে, মানুষ রাস্তায় নামে, সরকার “তদন্তের আশ্বাস” দেয়, মিডিয়া কয়েক দিন সরব থাকে—তারপর সব চুপ। অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর বিচার শব্দটি আবারও অর্থহীন হয়ে পড়ে। ওসমান হাদির ঘটনা কি এর ব্যতিক্রম হবে? অতীত দেখে সে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

    এই হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নয়—এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। কারণ যেখানে মতের জবাব গুলি দিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে সংলাপ, নির্বাচন, সংসদ—সবই ভাঁওতা। রাজনীতি সেখানে আর জনসেবার নাম নয়, ক্ষমতা দখলের সশস্ত্র প্রতিযোগিতা।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করতেই হবে: তারা কি সত্যিই অপরাধ দমনে সক্ষম, নাকি কেবল ঘটনার পর ফাইল খোলার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে? আর সরকারকে প্রশ্ন—নিরাপত্তা দিতে না পারলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক অধিকার আসে কোথা থেকে?

    রাজনৈতিক দলগুলোর ভণ্ডামিও কম নয়। নিজেদের লোক আহত হলে বিবৃতি, আর অন্যদের বেলায় কৌশলী নীরবতা—এই দ্বিচারিতাই সহিংসতাকে বৈধতা দেয়। সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান যদি সুবিধাভিত্তিক হয়, তবে সেটি অবস্থান নয়, প্রতারণা।

    ওসমান হাদি আজ হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য—আজ বাংলাদেশে রাজনীতি মানেই জীবন ঝুঁকির হিসাব। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে প্রশ্ন “কে গুলি করল” নয়, প্রশ্ন হবে—“পরের গুলি কার জন্য?”

    রাষ্ট্রকে এখনই প্রমাণ করতে হবে—বাংলাদেশ বন্দুকের হাতে জিম্মি নয়। নইলে ইতিহাস একদিন নির্মমভাবে লিখবে: গুলি চলেছিল, মানুষ মরছিল, আর রাষ্ট্র তখন নীরব দর্শক ছিল।

    📢 সাংবাদিক নিয়োগ

    দেশের সকল জেলা–উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শর্তসাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

    ইমেইল ঠিকানা:

    আরও খবর

    Sponsered content