প্রতিনিধি ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:৫৮:০৩
এম এ সাইদ (তন্ময়): দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ—সবখানেই আজ এক আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং। স্কুলব্যাগ হাতে যে বয়সে স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই ছুরি, চাপাতি আর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে একদল বিভ্রান্ত কিশোর। প্রশ্ন হলো—ওরা কি জন্মগত অপরাধী? নাকি আমরা সবাই মিলে তাদের অপরাধী বানিয়ে তুলেছি?
আরো পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য জরুরি নির্দেশ
বদলির বিষয়ে শিক্ষকদের সুখবর দিলেন মন্ত্রণালয়
কিশোর গ্যাং কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া সমস্যা নয়। এটা দীর্ঘদিনের পারিবারিক অবহেলা, শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের যৌথ ফসল। বাবা–মা ব্যস্ত জীবনে সন্তানের দিকে তাকানোর সময় পান না, স্কুল কেবল পরীক্ষার ফল নিয়ে ব্যস্ত, আর সমাজ চোখ বন্ধ করে থাকে—ফলাফল হিসেবে কিশোররা আশ্রয় নেয় গ্যাংয়ের ছায়ায়।
সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো—এই গ্যাংগুলো আর শুধু কিশোরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী চক্রের হাতিয়ার হিসেবে কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরাধ করলে শাস্তি কম—এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে মূল অপরাধীরা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অনেক সময় হয় খণ্ডিত, সাময়িক ও প্রতীকী।
আমরা প্রায়ই শুনি—“কঠোর শাস্তি দিতে হবে।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু শাস্তি কি সমাধান? সংশোধন, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ না দিলে আজ যে কিশোর কারাগারে যাবে, কাল সে আরও ভয়ংকর অপরাধী হয়ে ফিরবে। তখন দায় কার?
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবারকে শক্তিশালী করতে হবে, স্কুলে কাউন্সেলিং চালু করতে হবে, খেলাধুলা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাং লিডার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে—পরিচয় নয়, অপরাধই যেন হয় বিচারের মাপকাঠি।
আজ যদি আমরা নীরব থাকি, তবে কাল এই কিশোররাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত হবে। তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি কিশোরদের হারাতে চাই, নাকি তাদের উদ্ধার করতে চাই?
কারণ একটি কিশোরকে বাঁচানো মানে, একটি জাতির ভবিষ্যৎকে বাঁচানো।
















