সংসদে উত্থাপিত নির্বাচন কমিশন আইনে যা আছে - protidinislam.com | protidinislam.com |  
আইন বিভাগ

সংসদে উত্থাপিত নির্বাচন কমিশন আইনে যা আছে

  প্রতিনিধি ২৩ জানুয়ারি ২০২২ , ২:২৭:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

Spread the love

ইসলাম ডেস্কঃ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২ সংসদে উত্থাপন করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

রবিবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় সংসতে বিলটি উত্থাপন করেন, যা আগামী ৭ দিনের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

উত্থাপিত আইনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি এর আগে যে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিলেন, তার সুপারিশের ভিত্তিতে যে নিয়োগ হয়েছিল তা বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সে বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না বলেও উত্থাপিত আইনে বলা হয়েছে।

যদিও এই আইনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, এই আইন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। পরে আইনমন্ত্রী তার সেই বক্তব্যের জবাবে দেন।

উত্থাপিত আইনে অনুসন্ধান কমিটি গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে: (১) রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের শূন্য পদে নিয়োগদানের জন্য এই আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত ৬ সদস্য সমন্বয়ে কমিটি গঠন করবেন।

(ক) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনিত আপিল বিভাগের একজন বিচারক,যিনি অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি হবেন।
(খ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনিত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক
(গ) বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরক্ষক ও নিয়ন্ত্রণক
(ঘ) চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এবং
(ঙ) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত দুইজন বিশিষ্ট নাগরিক

অনুসন্ধান কমিটি তিন জন সদস্যের উপস্থিতিতে অনুসন্ধান কমিটির সভার কোরাম গঠিত হবে। অনুসন্ধান কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যা গরিষ্ঠের ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণয়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকবে। অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তাদের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করবেন।

অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি: (১) অনুসন্ধান কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করিয়া দায়িত্ব পালন করবে এবং এই আইনে বর্ণিত যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও সুনাম বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ করবে। (২) অনুসন্ধান কমিটি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে এই আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করবে এবং এতদুদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের নিকট হতে নাম আহ্বান করতে পারিবে। (৩) অনুসন্ধান কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে রাষ্ট্রপতির নিকট ২ (দুই) জন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করিবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের জন্য কোনো ব্যক্তিকে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে তাহার নিম্নরূপ যোগ্যতা থাকতে হবে, যথা:

(ক) তাহাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
(খ) তাহার বয়স ন্যূনতম ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর হতে হবে
(গ) কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা-সরকারি বা বেসরকারি পদে তাঁহার অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের অযোগ্যতা:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগদানের জন্য কোনো ব্যক্তিকে সুপারিশ করা যাবে না, যদি
(ক) তিনি কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন;

(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; (গ) তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;

(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন;

(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।

আইনে বলা হয়েছে-মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বিধান রয়েছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলি-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন। সংবিধানের উক্তরূপ বিধান বাস্তবায়নকল্পে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে একটি আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক। সেলক্ষ্যে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ শীর্ষক বিলের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ প্রদানের নিমিত্ত অনুসন্ধান কমিটি গঠন, অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের জন্য যোগ্যতা-অযোগ্যতা সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, প্রস্তাবিত বিলে অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক রাষ্ট্রপতির নিকট প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নাম সুপারিশ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের নিকট হতে নাম আহ্বান করার বিধান রাখা হয়েছে। বিলটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতঃপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের হেফাজত সংক্রান্ত বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদান স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে, গণতন্ত্র সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং জনস্বার্থ সমুন্নত হবে মর্মে আশা করা যায় বলে বলা হয়েছে।

ENGLISH